সম্প্রতি ‘মিলাদ ও কিয়ামের অকাট্য প্রমাণ’ নামে জনৈক মুফতী একটি বই বের
করেছেন। সেখানে আপনাদের প্রকাশিত ‘মীলাদ প্রসঙ্গ’ বইয়ের ও তার বিজ্ঞ লেখকের
বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হয়েছে। উক্ত বইয়ে কুরআন-হাদীছের
মাধ্যমে মীলাদ-কিয়াম প্রমাণ করা হয়েছে। তাতে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে
যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?
-আব্দুল্লাহ
পাটগ্রাম, লালমণিরহাট।
.
■উত্তর :
৪৪ পৃষ্ঠার উক্ত বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। গালি-গালাজের বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি এবং আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি। বইয়ে বর্ণিত প্রমাণগুলি অতীব ভ্রমাত্মক। কেননা প্রচলিত মীলাদের আবিষ্কারই হয়েছে ৬০৫ মতান্তরে ৬২৫ হিজরীতে। যা বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের প্রায় সকল বিদ্বান একমত।
.
এমনকি উপমহাদেশের মুজাদ্দিদে আলফে ছানী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ বলেছেন।
.
সেখানে বর্তমান যুগের কিছু লোক মীলাদকে প্রকারান্তরে ফরয (?) প্রমাণ করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। যেমন উক্ত বইয়ে কুরআন থেকে মীলাদের পক্ষে ৮টি ও কিয়ামের পক্ষে ৪টি আয়াত ও আয়াতাংশ পেশ করা হয়েছে। যথাক্রমে মীলাদের পক্ষে ৩/১৬৪, ৩৩/৯, ৯৩/১১, ৯/১২৮, ৯৪/৪, ৬১/৬, ১০/৫৮ এবং কিয়ামের পক্ষে ৪৮/৯, ৯৪/৪, ৩/১৯১, ২/১১৪। এছাড়াও তিনি প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে,
(১) ফেরেশতাগণ (২) পূর্বের নবী-রাসূলগণ (৩) আমাদের নবী স্বয়ং (৪) খুলাফায়ে রাশেদীন (৫) ছাহাবায়ে কেরাম এবং (৬) ইমাম ও মুজতাহিদগণ সকলে মীলাদ করেছেন বা তার পক্ষে ফৎওয়া দিয়েছেন।
.
বস্ত্ততঃ এগুলি সবই কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা বৈ কিছুই নয়। রাসূল (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীই বড় প্রমাণ যে, সে যুগে মীলাদ-কিয়ামের কোন অস্তিত্ব ছিল না। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন,
-রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবীগণের সময়ে যে সব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।
___________________
দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
-আব্দুল্লাহ
পাটগ্রাম, লালমণিরহাট।
.
■উত্তর :
৪৪ পৃষ্ঠার উক্ত বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। গালি-গালাজের বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি এবং আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি। বইয়ে বর্ণিত প্রমাণগুলি অতীব ভ্রমাত্মক। কেননা প্রচলিত মীলাদের আবিষ্কারই হয়েছে ৬০৫ মতান্তরে ৬২৫ হিজরীতে। যা বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের প্রায় সকল বিদ্বান একমত।
.
এমনকি উপমহাদেশের মুজাদ্দিদে আলফে ছানী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ বলেছেন।
.
সেখানে বর্তমান যুগের কিছু লোক মীলাদকে প্রকারান্তরে ফরয (?) প্রমাণ করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। যেমন উক্ত বইয়ে কুরআন থেকে মীলাদের পক্ষে ৮টি ও কিয়ামের পক্ষে ৪টি আয়াত ও আয়াতাংশ পেশ করা হয়েছে। যথাক্রমে মীলাদের পক্ষে ৩/১৬৪, ৩৩/৯, ৯৩/১১, ৯/১২৮, ৯৪/৪, ৬১/৬, ১০/৫৮ এবং কিয়ামের পক্ষে ৪৮/৯, ৯৪/৪, ৩/১৯১, ২/১১৪। এছাড়াও তিনি প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে,
(১) ফেরেশতাগণ (২) পূর্বের নবী-রাসূলগণ (৩) আমাদের নবী স্বয়ং (৪) খুলাফায়ে রাশেদীন (৫) ছাহাবায়ে কেরাম এবং (৬) ইমাম ও মুজতাহিদগণ সকলে মীলাদ করেছেন বা তার পক্ষে ফৎওয়া দিয়েছেন।
.
বস্ত্ততঃ এগুলি সবই কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা বৈ কিছুই নয়। রাসূল (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীই বড় প্রমাণ যে, সে যুগে মীলাদ-কিয়ামের কোন অস্তিত্ব ছিল না। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন,
-রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবীগণের সময়ে যে সব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।
___________________
দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ


0 Comments