Breaking News

রাজারবাগ দরবার শরীফ

৫, আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা-১২১৭
সিলেট কেন্দ্রীয় মসজিদের জাহিল খতীবসহ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধী সকল বিদয়াতীদের প্রতি-
 
১ কোটি টাকার ওপেন চ্যালেঞ্জ
গত ২৪ শে নভেম্বর ২০১৭ ঈসায়ী সনে সিলেট থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা ‘উকাব টোয়েন্টি ফোর ডট কমে’ প্রকাশিত জুমার বয়ানে সিলেটের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীবের ওপেন চ্যালেঞ্জ! শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় মসজিদের জাহিল খতীবসহ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধী সকল বিদয়াতীদের প্রতি ১ কোটি টাকার ওপেন চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হলো।


যদি বুকে সাহস থাকে তবে রাজারবাগ শরীফ এসে প্রমাণ করে দেখাও পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায় পবিত্র ঈদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা নাজায়িয ও বিদয়াত বলা হয়েছে। আর এজন্য তোমাদেরকে মাত্র এক সপ্তাহ নয় বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সময় দেয়া হলো।


উল্লেখ্য, উক্ত জাহিল খতীব যে বলেছে, “ইসলামে তৃতীয় কোনো ঈদ নেই” তার একথা ডাহা মিথ্যা ও দলীলবিহীন। কারণ ছিহাহ সিত্তাসহ অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, পবিত্র জুমুয়ার 


প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেদিন মুসলমান উনাদের ঈদের দিন, পবিত্র আরাফার দিন মুসলমান উনাদের ঈদের দিন। ফিক্বাহের বিখ্যাত কিতাব ‘হিদায়া শরীফে’ উল্লেখ আছে- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ৪টি অথবা ৫টি ঈদ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সে হিসেবে বছরে কমপক্ষে ৫২টি ঈদ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!


এ সাধারণ বিষয়টি যে জানে না সে আবার খতীব হয় কিভাবে? আর চ্যালেঞ্জ দেয় কোন মুখে?
উক্ত জাহিল খতীব আরো বলেছে, ১২ তারিখে পবিত্র বিলাদত শরীফ হওয়ার ব্যাপারে ইখতিলাফ আছে। মূলত তার এ বক্তব্যটিও চরম জিহালতপূর্ণ হয়েছে। কারন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন তা যেরূপ পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। তদ্রুপ ইজমা দ্বারাও প্রমানিত। অর্থাৎ এ ব্যাপারে ইজমা জই কেউ যদি অন্য কোনো তারিখের কথা বলে থাকে তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।


উক্ত জাহিল খতীব আরো বলেছে যে, ২৩ বছর নুবুওওয়াতী যিন্দেগীতে ঈদে মীলাদুন নবী পালনের কোনো প্রমাণ নেই।”
যে ব্যক্তি সম্মানিত শরীয়তে ঈদ কয়টা এটাই জানে না, সে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার প্রমাণ কিভাবে পাবে। না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন তার বহু প্রমাণ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে রয়েছে। অনুরূপ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম ও আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের আমল দ্বারাও তা প্রমাণিত রয়েছে।


উক্ত জাহিল খতীবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে হয় যে, ২৩ বছর নুবুওওয়াতী যিন্দেগীতে লংমার্চ, হরতাল, কুশপুত্তলিকা, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, খতমে বুখারী, দিস্তার বন্দি মাহফিল, করা, ইমামতি, খতীবগীরী, ওয়াজ করে টাকা নেয়া, ছয় উছূলভিত্তিক তাবলীগ করা, ইসলামের নামে ভোট-নির্বাচন করা, টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা করার, মাদরাসার বর্তমান কারিকুলামে শিক্ষা দেয়ার, মসজিদে চেয়ারে বসে নামায পড়ার প্রমাণ কি উক্ত জাহিল খতীব দেখাতে পারবে? কস্মিনকালেও পারবে না। তাহলে জাহিল খতীব ও তার গুরুরা এগুলো করে কেন? এগুলোকে কেন হারাম, বিদয়াত ফতওয়া দেয় না?
কাজেই, উক্ত জাহিল খতীব পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যা বলেছে তা সম্পূর্ণরূপেই ভুল, অশুদ্ধ, মিথ্যা, বানোয়াট ও দলীলবিহীন।


আমরা রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ থেকে তার উক্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। সে কখন ও কোথায় বাহাছে বসবে আমাদেরকে জানাক। আমরা তার সাথে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় বসতে রাজি আছি। ইনশাআল্লাহ।


রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষে-
মুফতীয়ে আ’যম আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক- দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত।
খতীব- ঐতিহাসিক তাজ জামে মসজিদ, মুহম্মদপুর, ঢাকা।


Post a Comment

0 Comments