Breaking News

মওলিদুন্নবী (দ:) - এর উদযাপন ও অনুমতি (পর্ব - ১১৯)


মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

৬.৪ আবূ আল-খাত্তাব বিন দিহ্ইয়া আল-কালবী (৫৪৪-৬৩৩ হিজরী)
মহাবিচারক আবূল আব্বাস শামস আল-দ্বীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবী বকর বিন খিলকা’ন নিজের ‘ওয়াফাএয়া’ত আল-আ’এয়া’ন ওয়া আবনা’ আল-যামা’ন’ শীর্ষক গ্রন্থে (৩:৪৪৮-৪৫০) হাফেয আবূ আল-খাত্তাব বিন দিহ্ইয়া আল-কালবী (৫৪৪-৬৩৩ হিজরী) সম্পর্কে উল্লেখ করেন: “তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ হক্কানী উলামা ও পুণ্যাত্মাদের একজন। তিনি ৬০৪ হিজরী সালে মাগরেব তথা পশ্চিমাঞ্চল হতে সফর করে সিরিয়া ও ইরাক্ব এলাকায় প্রবেশ করেন এবং ইরবিল অতিক্রম করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান ইরবিলের শাসক সুলতান মুযাফফার আল-দ্বীন বিন যাইন আল-দ্বীন ঈদে মীলাদুন্নবী (দ:)-এর উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাই তিনি বাদশাহ’র উদ্দেশ্যে ‘আল-তানভীর ফী মওলিদিল বাশীর আল-নাযীর’ (সুসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারীর মীলাদ/বেলাদতে বিচ্ছুরিত নূরের জ্যোতি) শীর্ষক একখানি বই রচনা করেন। বাদশাহ’র উপস্থিতিতে তিনি বইটি বাদশাহকে পাঠ করে শোনান, আর (ফলশ্রুতিতে) তাঁকে এক সহস্র দিনার পুরস্কার দেয়া হয়। আমরা ৬২৫ হিজরী সালে ছয়টি আলাদা আলাদা সমাবেশে (খোদ) বাদশাহ’র কাছ থেকে এই ঘটনার বিবরণ শুনেছিলাম।” [আল-সৈয়ূতী কৃত ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল মওলিদ’, ৪৪-৪৫ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী প্রণীত ‘আল-হা’ওয়ী লিল-ফাতা’ওয়া’, ২০০ পৃষ্ঠা; এবং আল-নাবহানী রচিত ‘হুজ্জাত-আল্লাহি আলাল-আলামীন ফী মু’জেযাত-এ-সাঈয়্যেদিল মুরসালীন’, ২৩৬-২৩৭ পৃষ্ঠা]

৬.৫ শামস আল-দীন আল-জাযারী (বেসাল: ৬৬০ হিজরী)
ক্বুরআন মজীদের শীর্ষস্থানীয় ক্বারী শামস আল-দ্বীন মুহাম্মদ বিন আবদ-আল্লাহ আল-জাযারী আল-শাফেঈ (জন্ম: ১২৬২ খৃষ্টাব্দ) নিজ ‘উরফ আল-তা’রীফ বিল-মওলিদিশ্ শরীফ’ শীর্ষক সংক্ষিপ্তসারমূলক পুস্তকে লেখেন: “মৃত্যুর পর এক স্বপ্নে আবূ লাহাবকে দেখা যায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার কী পরিণতি হয়েছে?’ সে জবাব দেয়, ‘আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়ছি। তবে প্রতি সোমবারে আমার শাস্তি লাঘব হয় এবং আমি এসব আঙ্গুলের আগা হতে পানি পান করতে সক্ষম হই (এসময় সে তার তর্জনী ও মধ্যমাঙ্গুল দুটো দেখায়)। আর এটা হয়েছে এ কারণে যে আমি দাসী সুয়াইবিয়াকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম, যখনই সে মহানবী (দ:)-এর বেলাদতের সুসংবাদ আমার কাছে নিয়ে এসেছিলো; আর ওই মুক্তির ফলে সে মহানবী (দ:)-এর সেবা করতে পেরেছিলো।’

“এ-ই যদি হয় আবূ লাহাবের অবস্থা, যে অবিশ্বাসীকে আল-ক্বুরআনে অভিসম্পাত দেয়া হয়েছে, অথচ রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর বেলাদতের রাতে খুশি হওয়ার দরুন তার শাস্তি করা হয়েছে লাঘব, এমতাবস্থায় ওই মুসলমানের কতোটুকু উচ্চমর্যাদা হবে, যিনি আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করেন ও মহানবী (দ:)-এর উম্মত হন, আর যিনি হুযূরের (দ:) মীলাদ/বেলাদত উপলক্ষে খুশি হন এবং তাঁরই প্রতি এশক্ব-মহব্বতের খাতিরে সাধ্যমতো অর্থব্যয় করেন? নিশ্চয় মহানুভব আল্লাহতা’লার তরফ থেকে তাঁর পুরস্কার হবে এই যে, আল্লাহ পাক তাঁকে নিজ বিশাল নেআমতের ভাণ্ডার হতে দান করবেন এবং তাঁকে সুখ-শান্তির বেহেশ্তে প্রবেশের অনুমতি দেবেন!” [আল-সৈয়ূতী লিখিত ‘আল-হাওয়ী লিল-ফাতা’ওয়া’, ২০৬ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী কৃত ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল-মওলিদ’, ৬৫-৬৬ পৃষ্ঠা; আল-কসতলানী রচিত ‘আল-মাওয়া’হিবুল লাদুন্নিয়া বিল- মিনাহ আল-মুহাম্মদীয়া’, ১:১৪৭; আল-যুরক্বানী মালেকী প্রণীত ‘শরহ-এ-মাওয়া’হিব আল-লাদুন্নিয়া বিল-মিনাহ্ অাল-মুহাম্মদীয়া’, ১:২৬০-২৬১; আল-সালেহী লিখিত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-এবা’দ’, ১:৩৬৬-৩৬৭; এবং আল-নাবহানী কৃত ‘হুজ্জাত-আল্লাহি আলাল-আলামীন ফী মু’জিযাতে সাঈয়েদিল মুরসালীন’, ২৩৭-২৩৮ পৃষ্ঠা]

লেখক আরো যোগ করেন: “মওলিদ উদযাপনের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, যার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে, তা এই যে এটা সারা বছর জুড়ে নিরাপত্তার উৎস এবং অন্বেষণকৃত প্রতিটি উত্তম বস্তুর সুসংবাদ হয়।” [আল-সালেহী রচিত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবাদ’, ১:৩৬৫-৩৬৬] 

৬.৬ ইমাম আবূ শা’মা (৫৯৯-৬৬৫ হিজরী)
ইমাম আবূ শা’মা আবদ্ আল-রাহমান বিন ইসমাঈল (১২০২-১২৬৭ খৃষ্টাব্দ) হলেন ‘সহীহ মুসলিম শরীফের’ ব্যাখ্যাকারী ইমাম নববী (৬৩১-৬৭৭ হিজরী/১২৩৩-১২৭৮ খৃষ্টাব্দ)-এর শায়খ। তিনি তাঁর ‘আল-বা’য়েস ’আলা এনকা’র আল-বিদ’আ ওয়াল-হাওয়া’দিস’ পুস্তকে লেখেন: “আমাদের যুগে প্রবর্তিত সেরা বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মহানবী (দ:)-এর বেলাদত বার্ষিকীর দিনটির উদযাপন। ওই দিন দান-সদকাহ করা হয়, নেক আমল পালন করা হয়, আর উত্তম পোশাক পরা এবং খুশি প্রকাশ করা হয়। এধরনের কর্ম, গরিবদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া ছাড়াও, ইঙ্গিত করে যে মহানবী (দ:)-এর প্রতি মানুষের অন্তরে এশক্ব-মহব্বত, শ্রদ্ধা ও (তাঁর) মহিমা (উপলব্ধিসূচক) অনুভূতি বিরাজমান; আর পাশাপাশি আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা বিদ্যমান এই কারণে যে তিনি রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে সৃষ্টি করে জগতসমূহের জন্যে তাঁরই (খাস) রহমত হিসেবে প্রেরণ করে তাদেরকে আশীর্বাদধন্য করেছেন।” [আবূ শা’মা প্রণীত ‘আল-বা’য়েস ‘আলা এনকা’র আল-বিদআ’ ওয়াল-হাওয়া’দিস’, ২৩-২৪ পৃষ্ঠা; আল-সা’লেহী কৃত ‘সুবুল অাল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবা’দ’, ১:৩৬৫; আল-হালাবী, ‘ইনসা’ন আল-উয়ূন ফী সীরাতে আল-আমীন আল-মা’মূন’, ১:৮৪; আহমদ ইবনে যাইনী দাহলা’ন মক্কী, ‘আল-সীরাতে নবববীয়্যা’, ১:৫৩; এবং আল-নাবহানী, ‘হুজ্জাত-আল্লাহি ‘আলাল-’আলামীন ফী মু’জিযা’তে সাইয়্যেদিল মুরসালীন’, ২৩৩ পৃষ্ঠা]

ইরবিলের বাদশাহ আবূ সাঈদ আল-মুযাফফর আল-কাওকাবুরী কর্তৃক মীলাদুন্নবী (দ:) উদযাপন ও এই উপলক্ষে তাঁর বিপুল ব্যয় সম্পর্কে আবূ শা’মা বলেন: “এই উত্তম কাজ প্রশংসনীয় এবং এর অনুশীলনকারী গৃহীত ও প্রশংসিত জন।” [আল-সালেহী কৃত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-এবা’দ’, ১:৩৬৩] 


Post a Comment

0 Comments