মিসরের একটি মসজিদে বোমা ফাটিয়ে সালাফি-ওহাবী মতাদর্শীরা কমপক্ষে ২০০ জন জুমার নামাযরত মুসল্লিকে শহীদ করে দিয়েছে। পত্রিকা হতে জানতে পারলাম, মসজিদটিতে সুফি মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষের আগমন যাতায়াত বেশি ছিল। মুসলমানের বিভিন্ন গোষ্ঠির মধ্যে মতভেদ ছিল, আছে এবং থাকবে তাই বলে আল্লাহর ঘর মসজিদে মানুষ মারতে হবে? এই হিংস্রতা এই বর্বরতা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের লোক করতে পারে? যা মুসলিম নামের কতগুলো মানুষরুপী পশু করতে পারে। লক্ষ্য করার বিষয়, হিন্দুদের মধ্যে অনেক জাত আছে, খ্রিস্টানদের মধ্যেও অনেকগুলো ভাগ বা গোষ্ঠি রয়েছে। কিন্তু আপনারা কি কখনও শুনেছেন এক গোষ্ঠির হিন্দু বা খ্রিস্টান,ইহুদি অপর গোষ্ঠির মন্দির/ইবাদতগাহে বোমা ফাটিয়ে ধ্বংস করেছে এবং মানুষ মেরেছে। কিন্তু মুসলিম নামের এক গোষ্ঠি অপর গোষ্ঠির খানকাহ,দরগাহ,মাজার,মাদ্রাসা ধ্বংস করিতেছে,বোমা পাঠাচ্ছে। এতো অধঃপতন আমাদের আল্লাহ মালুম!
আশ্চর্যের বিষয় আমাদের হিংস্রতা থেকে আল্লাহর ঘর রেহাই পাচ্ছে না। অথচ আল্লাহর নামে দোহাই দিয়ে এগুলো করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহর মহব্বতে এগুলো করা হচ্ছে না। দলের স্বার্থে বা গোষ্ঠির মোটাতাজার স্বার্থে বা গোষ্ঠির আমির, ইমাম,শায়েখ, পীরের স্বার্থে এগুলো করা হচ্ছে। কত অধঃপতন এই মুসলিম জাতির??? কোরআনে এই হিংস্র শ্রেনীর মানুষকে পশুর মত এবং পশুর চেয়ে অধম বলা হয়েছে। মনে রাখতে হবে সর্বপ্রথম আমি একজন মানুষ। মানুষ হয়ে মানুষকে কিভাবে হত্যা করতে পারি? স্বজাতি হয়ে স্বজাতিকে হত্যা শোভা পায়? আমার ধর্মের মত যদি কারো সাথে বা গোষ্ঠির সাথে না মিলে, তাহলে কোরআনের ভাষায় বলে দিলেই হয়- লাকুম দিনুকুম ওয়াল ইয়াদ্বীন অর্থাত তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। অপরদিকে সুফি/ দরবার/খানকাহ/পীর পন্থীরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
কেউ কেউ সালাফি-ওহাবীদের মত ফতোয়ায় লিপ্ত রয়েছে, কেউ কেউ নিজের পীর যুগের ইমাম বা গাউসুল আযম প্রমাণে লিপ্ত রয়েছে, কেউ কেউ দরবারের ভাগ বাটোয়ারায় রাতের ঘুম হারাম করছে, কেউ কেউ রুটি রুজির প্রধান উতস বানিয়ে ফেলছে, কেউ কেউ এক দরবার অপর দরবারের সাথে হিংসায় ফেটে পড়ছে, কেউ কেউ নিরবে নিশ্চুপ রয়েছে ইত্যাদি। কোন একটা দরবার পেলাম না, যেখানে গবেষনার জন্য লেখক,গবেষক ও আলেমদের নিয়ে নিরলসভাবে কোরআন- হাদিসের গবেষনা করা হচ্ছে। শরিয়ত ও তরিকতের জ্ঞান দিয়ে তালিম, তাসাউফ, সুফিদের কর্ম সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে। আজ সালাফি-ওহাবী-লা মাযহাবী-তবলীগী-দেওবন্দীদের যে প্রচার ও প্রচার, তার সিকি পরিমাণ প্রচার ও প্রসার খানকা/দরগাহ হতে হচ্ছে কি??????? প্রচার না থাকলে প্রসার থাকবে কেমনে?? অথচ সারা বিশ্বে হাজার হাজার দরগাহ/খানকা/মাজার/সিলসিলা রয়েছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়- জ্ঞান বিজ্ঞান তাসাউফ দর্শন ঐশি শক্তি লাভের জন্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আলেম,উলামা, পন্ডিত, রাজা বাদশাহ পর্যন্ত সুফি/শায়েখদের খানকাহে হাজিরা দিত। এখনকার শায়েখ/ পীর/সুফিদের কাছে রাজা বাদশাহ তো দুরের কথা, শিক্ষিত সমাজ যেতে চায় না কারন কি? কারণ অনেক।
তবে একটা কথা বলতে চাই- বর্তমান এই সুফি/পীর জাতিরা তাদের পুর্বোক্ত সুফিদের দর্শন হতে অনেক অনেক দুরে অবস্থান করেন। শুধু বাপ দাদার কারামতের গল্প বলে, অথচ নিজেরা কি জানে ও মানে তা জানা যায় না। কথা আছে, কাজে নেই। সুফিদের মধ্যেই সুফিবাদের প্রকৃত চর্চা নেই। চর্চা না থাকলে পরিচর্যা হবে কোথা হতে। বীজ বপন না করলে গাছ ও ফল হবে কোথা হতে?????? যে জাতি নিজেরা পরিবর্তন হতে চায় না, সে জাতিকে আল্লাহ পরিবর্তন করে দেন না এটা কোরআনের ঘোষনা। আফসোস কবে হুস হবে এ জাতির, ভাঙ্গবে ঘুম, খুলবে ঘরের দ্বার, দেখবে আলোর মুখ।


0 Comments