------আয়াত আয়াত শোন না প্লিজ।
------ না শুনবো না।
------প্লিজ আয়াত একবার শোন না। স্যরি
------- না। আগে বলো তুমি এত বড় কথাটা আমার কাছ থেকে কিভাবে লুকালে?
------- স্যরি বললাম তো। এবার কিন্তু কান্না করে দিবো।
------ এই না একদম না। তোমার চোখ থেকে এক ফোটা জল পড়লে আমার রাগ কিন্তু আর ভাঙাতে পারবে না বলে দিলাম।
------ওকে কান্না করবো প্লিজ রাগ করো না। আমার কাছে আসো।
এতক্ষন কথা হচ্ছিল আয়াত আর তুলির সাথে। ওরা দুজন স্বামী-স্ত্রী। এক বছর হলো ওদের বিয়ে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটা কাজে আয়াত এক সপ্তাহের জন্য সিঙ্গাপুর যায়।
তখন তুলি সিড়ি দিয়ে পরে গিয়ে পায়ে খুব ব্যাথা পায়। কিন্তু আয়াত চিন্তা করবে দেখে তুলি আয়াতকে জানায়নি। কারন তুলি জানে আয়াত যদি শোনে তবে তৎক্ষনাত চলে আসবে।
কিন্তু আয়াত বাড়ি ফিরে দেখে তুলি ঠিকমত হাটতে পারে না। খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটে। সেটা দেখেই ও তুলির ওপর ভিষন রাগ করলো। কেন ওকে এ কথা জানায় নি?
আর তাই তুলি আয়াতের রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করতেছে।
কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছেনা।
আইডিয়া---
আউস------ ও মা ভিষন ব্যাথা করতেছে। (তুলি ব্যাথা পাওয়ার নাটক করছে আয়াতকে দেখানোর জন্য)
আয়াতঃ (দৌড়ে তুলির কাছে এসে।) কি হয়েছে তুলি? তুমি আবার ব্যাথা পেয়েছো? একটু সাবধানে চলা যায় না। (রাগ করে)
তুলিঃ তোমার জন্যই তো ব্যাথা পেলাম আবার?
আয়াতঃ আমি কি করলাম?
তুলিঃ কতক্ষন ধরে স্যরি বলতেছি কিন্তু তুমিতো আমার কোন কথাই শুনছো না?
আয়াতঃ স্যরি পরী। চলো বাসায় চলো।
আয়াত তুলিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরের দিকে যায়। আর তুলি ওর মাথাটা আয়াতের বুকে লুকিয়ে রাখে।
ওরা যতক্ষনে ঘরে যাবে ততক্ষনে ওদের সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক।
আয়াত দেড় বছর আগে লেখা পড়া শেষ করে দেশে আসে। আর তারপর বাবার ব্যবসা দেখাশুনার কাজে লেগে যায়।
আর তুলি তখন অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। তুলি বরাবরই বাচ্চাদের খুব ভালোবাসতো। তাই নিজের পড়াশুনার পাশাপাশি একটা অনাথ বাচ্চাদের স্কুলে পড়াতো।
টাকার জন্য পড়াতো না। টাকার কোন অভাব তুলিরে নেই। বাবার বিশাল ব্যবসা। তুলি তাদের এক মাত্র মেয়ে। তুলি ঐ সব বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগতো তাই।
এক বছর হয়নি এখনো ওদের বিয়ের চার মাস বাকি। কিন্তু ওরা একে অপরকে ভিষন ভালোবাসে।
তুলি আর আয়াতের বিয়েটা লাভ আর এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ মিলিয়ে কি ভাবে তা একটু পরই জানবেন?
যাক ওরা বাসায় পৌছালো। আয়াত তুলিকে নিয়ে বিছানায় বসালো। তারপর তুলির পা টা দেখছে।
আয়াতঃ আসলেই তো অনেকটা নীল হয়ে গেছে। এই কোমল সুন্দর পায়ে পায়েল ছাড়া কিছু মানায় না। আর তুমি তাতে এতটা ব্যাথা দিছো। বলেই তুলির পায়ে আলতো করে একটা চুমু দিলো।
তুলিঃ আয়াত কি করছো কি?
আয়াতঃ বেশ করেছি এটা আমার পরীর পা। (ও হা আয়াত তুলিকে ভালোবেসে পরী ডাকে)। তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে না পরী?
তুলি দেখছে আয়াতের চোখ ছলছল করছে। একটু হলেই চোখের নদীর বাধ ভেঙে যাবে।
তুলিঃ হেই হ্যাজবেন্ড কাছে আসো।
আয়াত গিয়ে তুলির পাশে বসলো।
তুলিঃ (আয়াতের হাতটা ধরে) তুমি যতক্ষন আমার সাথে আছো আমার কি হবে বলো? সামান্য একটু লেগেছে। দেখো দুদিনই ঠিক হয়ে যাবে।
আয়াতঃ এটা সামান্য। তুমি কেন এমন করো? একটু খেয়াল করে চলাফেরা করবে তো। ব্যাথায় নীল হয়ে গেছে। কতটা কষ্ট হচ্ছে তোমার।
এবার আয়াতের চোখের নদীর বাধ ভেঙে জল গড়িয়ে পড়ছে।
তুলি কোন উপায় না দেখে আয়াতকে জড়িয়ে ধরলো।
তুলিঃ হেই হ্যাজবেন্ড আই এ্যাম ওকে। প্লিজ কান্না করো না। আয়াতের চোখের জল দেখে তুলিও নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না। ও কান্না করে দিলো।
আয়াত ! আয়াত!
আয়াতঃ হুম (ভেজা গলায়)
তুলিঃ প্লিজ মেয়েদের মতো কান্না করো না।
আয়াতঃ তুমি বাচ্চাতের মত করতে পারলে আমি কেন কান্না করতে পারবো না?
তুলিঃ আর কখনো এমন হবে না। এবারতো কান্না বন্ধ করো?
আয়াতঃ ঠিক আছে। তাহলে ১০ বার স্যরি আর ১০০ বার আই লাভ ইউ বলো।
তুলিঃ ওকে। আয়াতের কপালে একটা চুমু দিয়ে। স্যরি হ্যাজবেন্ড। আর আই ----- ইউ।
আয়াতঃ আই আর ইউ তো আছে বাট মাঝখানের লাভ কই।
তুলিঃ ওটা তো তুমি বলবা?
আয়াতঃ আমি তো বলবো না করে দেখাবো।
তুলিঃ (লজ্জা পেয়ে) মানে?
আয়াতঃ মানে আমি তোমাকে এখন-------- ভালোবাসবো।
তুলিঃ একদম না।
আয়াতঃ একদম হ্যা। এখন তো তুমি দৌড়ে পালাতেও পারবে না।
তুলিঃ দেখো তুমি কিন্তু সুজগের অসৎ ব্যবহার করছো।
আয়াতঃ নো মাই লাভ। এটাকেই বলে সুজোগের সৎ ব্যবহার ।
তুলিঃ আয়াত সবে মাত্র আসলা এখন ফ্রেস হয়ে খেয়ে নাও।
আয়াতঃ নো।
ক্রিং ক্রিং
তুলি কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে দরজায় কে যেনো বেল বাজালো।
তুলিঃ যান সাহেব এবার দড়জা খুলে দেখেন কে আসছে?(মুচকি হেসে)
আয়াতঃ যাচ্ছি যাচ্ছি। (রাগ করে)
দড়জা খুলে দেখে তুলির বাবা মা এসেছে।
আয়াতঃ তাদের সালাম দিয়ে ভিতরে আসতে বললো।
তুলির মাঃ কেমন আছো বাবা?
আয়াতঃ জ্বি ভালো মা। আপনারা ভালো আছেন তো?
তুলির বাবাঃ মাশাল্লাহ ভালো। তুলির এখন কি খবর?
আয়াতঃ বাবা আপনারাও আমাকে তুলির পায়ে ব্যাথা পাওয়ার কথা কেন জানালেন না?
বাবাঃ তোমার তুলিই নিষেধ করেছে।
আয়াতঃ ও বললেই শুনতে হবে? ও তো একটা পাগল। আমি আপনাদের ওপরও রাগ করছি?
মাঃ দেখ বাবা রাগ করিস না। আর তাছাড়া আমরাও ভাবছি শুধু শুধু তোকে টেনশন কেন দিবো?
এর মধ্যে তুলি নিচে নেমে দেখে ওর বাবা মা এসেছে।
তুলিঃ তোমরা কখন এলে?
মাঃ এই তো কিছুক্ষন। তোর পায়ের ব্যাথা কমেছে একটু?
তুলিঃ হ্যা অনেকটা।
আয়াতঃ তুমি নিচে নামলা কেন? এই অবস্থায়?
তুলিঃ দেখো আয়াত আমার পায়ের ব্যাথা এখন অনেক কম প্লিজ শুধু শুধু টেনশন নিয়ো না।
তারপর সবাই মিলে রাতের খাবার খেতে বসলো। তুলির বাবা মা, আয়াতের বাবা মা, সবাই আয়াতের কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসতেছে। কারন আয়াত তুলিকে জোড় করে খাইয়ে দিচ্ছে। আর এমন ভাবে খাওয়াচ্ছে যেনো তুলি কোন বাচ্চা। বিয়ের পর থেকে সবসময় আয়াত তুলিকে খাইয়ে দেয়।
খাওয়া শেষে তুলি বারান্দায় গিয়ে বসলো। কারন আজ খুব সুন্দর চাঁদনী রাত। এরকম রাতে প্রায়ই তুলি আর আয়াত বারান্দায় বসে গল্প করে সারারাত।
আর আয়াত এক কাপ চা নিয়ে আসলো।
তুলিঃ তুমি কিভাবে বুঝলা আমার এখন চা খেতে ইচ্ছা করছে?
আয়াতঃ ও ম্যাডাম আমি জানি এরকম চাঁদনী রাতে আপনি বারান্দায় বসে চা খেতে পছন্দ করেন।
তুলিঃ Thanks sweet Husband.
আয়াত গিয়ে তুলির পাশে বসলো। তারপর এক কাপ চা দুজনেই খাচ্ছে আর গল্প করছে।
আয়াতঃ পরী আমাদের প্রথম দেখা হওয়ার কথা তোমার মনে আছে?
তুলিঃ কিভাবে ভুলি বলো? তুমি কি রকম বোকার মত এক ধ্যানে তাকিয়ে ছিলে আমার দিকে
আয়াতঃ কি আমি বোকা ? দাড়াও চালাকি কাকে বলে দেখাচ্ছি------------
চলবে-----------
ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।

0 Comments